বিনোদন ডেস্ক | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 7 বার পঠিত

পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে মানুষের কৌতূহল কম নয়। তাই তো তাঁর জীবনের গল্প পর্দায় তুলে ধরেছেন হলিউড নির্মাতা অ্যান্টনি ফুকো। প্রয়াত এই পপতারকার জীবনের গল্প নিয়ে যখন ‘মাইকেল’ সিনেমার ঘোষণা হয়, তখন থেকেই সিনেমাটি যে সব রেকর্ড ভেঙে দেবে; হয়েছেও তাই। ‘মাইকেল’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই বক্স অফিসে তুমুল সাড়া ফেলেছে।
প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রে ৯৭ মিলিয়ন ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২১৭ মিলিয়ন ডলার আয় করে সিনেমাটি নতুন রেকর্ড গড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ভ্যারাইটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে বায়োপিক ঘরানার চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড এখন ‘মাইকেল’-এর দখলে। এর আগে ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্ট্রেট আউটা কম্পটন’ এই তালিকায় শীর্ষে ছিল, যার উদ্বোধনী আয় ছিল প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার। সেই রেকর্ড অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে নতুন এই বায়োপিক।
মাইকেল সিনেমায় দেখানো হয়েছে জ্যাকসনের শৈশব, ‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’-এর সঙ্গে তাঁর যাত্রা, বাবার কঠোর নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি, একক শিল্পী হিসেবে সুপারস্টার হয়ে ওঠা এবং ১৯৮৮ সালের ‘ব্যাড’ ট্যুরের জাঁকজমকপূর্ণ কনসার্টের মাধ্যমে সমাপ্তি। অর্থাৎ কোনো বিতর্কিত অংশই রাখা হয়নি। মাইকেল সিনেমার গল্প শুরু হয় ছোট্ট এক শিশুকে দিয়ে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের গ্যারি শহরে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম তাঁর। বাবা জো জ্যাকসনের কঠোর শাসনে বড় হওয়া সেই শিশুটি খুব দ্রুত বুঝে যায়, মঞ্চই তাঁর নিয়তি।
‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’-এর সঙ্গে গান গাইতে গাইতে সে হয়ে ওঠে দলের প্রাণ। তবে এই গল্প শুধু সাফল্যের নয়; এটি চাপ, প্রত্যাশা এবং হারিয়ে যাওয়া শৈশবের গল্পও। সময়ের সঙ্গে সেই শিশুটি হয়ে ওঠে এক তরুণ শিল্পী। তখনই বিশ্ব দেখে এক বিস্ফোরণ। ‘থ্রিলার’।
এই অ্যালবামে শুধু গান নয়, এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব। ‘বিলি জেন’ কিংবা ‘বিট ইট’ প্রতিটি গান যেন একেকটি দৃশ্য, একেকটি গল্প। চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে হঠাৎ এক পা এক পা করে পিছিয়ে যাওয়া। সেই মুনওয়াক। সেই মুহূর্তেই মাইকেল জ্যাকসন হয়ে ওঠেন এক মিথের নাম। কিন্তু যত আলো, ততই যেন গাঢ় হয় ছায়া। খ্যাতির চূড়ায় দাঁড়িয়ে মানুষটি ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলেন নিজের ব্যক্তিগত জীবন। বিতর্ক, অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের তীব্র নজর। সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন এক জটিল চরিত্র।
ছবিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁরই ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। বলা যায়, রক্তের সম্পর্ক যেন জাফারের অভিনয়ে এনে দিয়েছে স্বতঃস্ফূর্ততা। এই সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হলো তাঁর। ছবিতে ছোটবেলার মাইকেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুলিয়ানো ক্রু ভালাদি।
এ ছাড়াও সিনেমায় মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বাবা জো জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন কোলম্যান ডমিংগো। মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের চরিত্রে দেখা যাবে নিয়া লংকে। বোন লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসিকা সুলা।
এ ছাড়া সংগীতজগতের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের চরিত্রও।
প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বাজেটে নির্মিত ‘মাইকেল’ প্রযোজনা করেছে লায়ন্সগেট, ইউনিভার্সাল পিকচার্স এবং মাইকেল জ্যাকসন এস্টেট। বড় বাজেট, শক্তিশালী বিপণন এবং বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের আগ্রহ–সব মিলিয়ে ছবিটি যে বক্স অফিসে ঝড় তুলবে, তা আগেই অনুমান করা হয়েছিল। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই সেই প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে ‘মাইকেল’।
Posted ১১:০৫ এএম | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।